আটপাড়া উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে শুনই গ্রামে এর অবস্থান।
এই ৪০০ বছরের পুরনো দালানটি শুনই গ্রামের ঐতিহ্য নামে খ্যাত।
নির্মাণ: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনিুমানিক প্রায়-৪০০ বছর পূর্বে ১৬২২ খ্রীষ্টাব্দে এই দালানটি নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন সময়ে জমিদারী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য সম্ভবত এই দালানটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই জীর্ণশীর্ণ দালান সম্পর্কে সু-স্পষ্ঠ ধারনা পাওয়ার মত কোন বিজ্ঞ ব্যাক্তি খোঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তি এই দালান সম্পর্কে কিছুটা তথ্য প্রদান করেছেন।
ইতিহাসথেকে জানা যায়, এই দালানটি মূলত বেশ কয়েকজন জমিদার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। আর এটি নির্মাণের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি প্রয়োগের স্থান হিসেবে এই দালানটি ব্যবহার করবে। শেষ পর্যন্ত তাদের উদ্দেশ্যই সফল হয়েছিল। যারা এই বিচার কার্যে নের্তত্ব প্রদান করতেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, বাছির খাঁ,আছলত খাঁ, মিছির খাঁ সহ আরো অনেকে। সর্বশেষ যিনি এখানে রাজত্ব করেছিলেন তিনি হলেন আকবর আলী খাঁ।
তৎকালীন এই জমিদারগণ বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এবং সমাজে তাদের আত্মমর্যদাও ছিল সর্বোচ্চ স্থানে।
একজন বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, জমিদারদের বাড়ির উপর দিয়ে কোন লোক যাতায়াত করতে পারতো না। যদি কোন ব্যক্তি জমিদারদের বাড়ির উপর দিয়ে যাতায়াত করার প্রয়োজন হতো তাহলে তাদের পায়ের জুতো বা খড়ম হাতে নিয়ে চলাফেরা করতে হতো। ( খড়মকাঠের তৈরী এক ধরনের জুতো )। ভূল করেও যদি কেহ পায়ে জুতো রেখে চলাফেরা করতো, তাহলে তাদেরকে কঠিন বিচারের সম্মুখীন করা হতো এই পুরোনো দালানটিতে।
এছাড়াও এলাকায় চুরি ডাকাতি খুন ইত্যাদি অপরাধের জন্যও এই দালানটিতে বিচার কার্য পরিচলা করা হতো। একনায়কভাবে যে বিচার কার্য পরিচালনা করা হতো সকলেই তা মেনে নিতে বাধ্য হতো। এভাবেই প্রায়-৪০০ বছর পুরোনো এই দালানটিতে বিচার কার্য পরিচালনা করা হতো।
দালানটি যিনি নির্মাণ করেছিলেন তাহার নাম বা ঠিকানা বর্তমান সমাজের কাহারো জানা নেই। তবে অনেকের ধারনা ৭ পুরুষ পূর্বে কোন এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই দালানটি নির্মাণ করেছিলেন। এই দালানটি নির্মিত হয়েছিল একটি বিশাল জঙ্গলের ভিতর। এই এলাকার অতি বয়স্ক একজন ব্যক্তির মাধ্যমে জানা যায়, এই বিশাল জঙ্গলের ভিতর হরিণ, সিংহ বসবাস করতো, বিধায় এই জঙ্গলের নাম করন করা হয়েছিল হরিসিংহের
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস